ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পোপ লিও চতুর্দশ। রবিবার প্রার্থনার শেষে তিনি দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি তাঁর দুঃখ প্রকাশ করেন এবং বিশ্বজুড়ে খ্রিস্টভক্তদের তাঁদের জন্য আন্তরিক প্রার্থনার আহ্বান জানান।
পোপ বলেন, ফ্রান্স ও স্পেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানলে যারা ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন কিংবা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন—তাঁদের সকলকে তিনি প্রার্থনায় স্মরণ করছেন। একই সঙ্গে জীবন বাজি রেখে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাওয়া অগ্নিনির্বাপক বাহিনী, উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের জন্যও বিশেষ প্রার্থনা করার আহ্বান জানান তিনি।
ফ্রান্স ও স্পেনে চলমান দাবানল ইতোমধ্যে ইউরোপের অন্যতম বড় মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং প্রবল বাতাসের কারণে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া আগুনে ৩ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার হেক্টর বনভূমি, কৃষিজমি ও অসংখ্য বসতবাড়ি আগুনে পুড়ে গেছে।
ফ্রান্সের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বোর্দো এলাকার পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। সেখানে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে স্পেনের মাদ্রিদ, আভিলা, তোলেদো ও ভ্যালেন্সিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে ৭৫ হাজারের বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে বিশেষ অগ্নিনির্বাপণ বিমান, হেলিকপ্টার এবং শত শত উদ্ধারকর্মী মোতায়েন করেছে।
পোপ লিও চতুর্দশ তাঁর বক্তব্যে কেবল ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রার্থনাই করেননি, বরং এই সংকটকে মানবিক সংহতির পরীক্ষাও বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দুর্যোগের এই সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করা এবং আশার বার্তা পৌঁছে দেওয়া খ্রিস্টীয় দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
এদিকে ফ্রান্সের ক্যাথলিক বিশপ সম্মেলন দেশটির ধর্মপল্লী ও গির্জাগুলোকে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য উন্মুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে। অনেক স্থানে প্যারিশ হলকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গির্জাগুলোতে দাবানল দুর্গতদের জন্য বিশেষ প্রার্থনার আয়োজনও করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে তাপপ্রবাহ ও দীর্ঘস্থায়ী খরার প্রবণতা বাড়ছে, যা দাবানলের ঝুঁকিকে আরও তীব্র করে তুলছে। তবে এই সংকটের মধ্যেও পোপ লিও চতুর্দশের প্রার্থনা ও সংহতির আহ্বান বিশ্বজুড়ে মানুষের কাছে আশা, সহমর্মিতা ও মানবিক দায়িত্ববোধের এক শক্তিশালী বার্তা হয়ে উঠেছে।

