ভ্যাটিকান সিটির ডিকাস্টেরি ফর প্রোমোটিং ইন্টিগ্রাল হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট-এর প্রিফেক্ট ও ভ্যাটিকানের বিশিষ্ট মন্ত্রী কার্ডিনাল মাইকেল ফেলিক্স চেরনি এসজে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
আজ ঢাকার সিবিসিবি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন,
“আমি নারায়ণগঞ্জে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত মানুষদের এবং কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। দুই ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। বছরের পর বছর রাষ্ট্রহীন, কর্মহীন ও সীমাবদ্ধ জীবনযাপন কোনোভাবেই সহনীয় নয়। এটা সত্যিই লজ্জার বিষয় যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো পর্যন্ত এই (রোহিঙ্গা) সমস্যার কোনো সমাধান করতে পারেনি।”
কার্ডিনাল চেরনি অভিবাসন ও মানবিক সংকট নিরসনে আলোচনার গুরুত্বের ওপরও জোর দেন। তিনি বলেন,
“আমাদের সবসময় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংলাপ বজায় রাখতে হবে। আমরা কখনো দরজা বন্ধ করতে চাই না। মতবিনিময়ের মাধ্যমেই দেশীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমাধানের পথ খোঁজা সম্ভব।”
তার সফরকালে তিনি নারায়ণগঞ্জের মদনপুরে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এছাড়া তিনি পথশিশু, স্বেচ্ছাসেবক ও কারিতাস বাংলাদেশের কর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সংহতি ও সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তার কর্মসূচিতে আন্তঃধর্মীয় প্রার্থনা, পারিবারিক সাক্ষাৎ এবং শিশু কেন্দ্র পরিদর্শন অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কার্ডিনাল চেরনি বিশ্ব সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি অধিক সহমর্মিতা প্রদর্শনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন,
“বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। বিশ্বে এই বিষয়ে আগ্রহ কমে যাচ্ছে, সাহায্যও কমে গেছে। কিন্তু এখন দরকার আরও বেশি সংহতি, কম নয়। সব প্রতিষ্ঠান — খ্রিষ্টান হোক বা অন্য — যাদের প্রয়োজন তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমরা সাহায্য করছি এবং তা অব্যাহত রাখতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সেসকা ডোনা, এশিয়া মেইনল্যান্ডের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী; রাজশাহীর বিশপ ও এপিস্কোপাল কমিশন ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস-এর চেয়ারম্যান বিশপ গেরভাস রোজারিও; এবং কমিশনের সচিব ফাদার লিটন হিউবার্ট গোমেজ। প্রায় ৪০ জন সাংবাদিক ও লেখক এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।