একই রাতে গির্জা ও খ্রিস্টান বাড়িতে ডাকাতি: গুলিতে নিহত হলি ক্রস মিডিয়ার সাংবাদিক জর্জ স্টিফেন গোমেজ, উদ্বেগে খ্রিস্টান সম্প্রদায়

ঢাকা, ২৯ এপ্রিল: রাজধানীতে একই রাতে একটি ক্যাথলিক গির্জা ও একটি খ্রিস্টান পরিবারের বাসায় সংঘটিত ডাকাতির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন এক ধর্মযাজক এবং দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হয়েছেন হলি ক্রস মিডিয়ার সাংবাদিক জর্জ স্টিফেন গোমেজ। ঘটনাদুটি সাধারণ ডাকাতি, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে—এমন প্রশ্ন এখন বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২৭ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর গুলশান নয়ানগর (ভাটারা) এলাকার সেন্ট ইউজিন দ্য ম্যাজেন্ড ক্যাথলিক চার্চে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, দুই থেকে তিনজন দুর্বৃত্ত গির্জার নিরাপত্তা দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে দায়িত্বরত ফাদার সুবাস গমেজের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তাকে মারধর করে নগদ প্রায় ১.৫ থেকে ২ লাখ টাকা এবং তার পাসপোর্ট ছিনিয়ে নেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

একই দিনে দুর্বৃত্তরা রাজধানী খিলক্ষেত ডুমনি ইছাপুরা এলাকায় একটি খ্রিস্টান পরিবারের বাসায় প্রবেশ করে ডাকাতির চেষ্টা চালায়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলি ক্রস মিডিয়ার সাংবাদিক জর্জ স্টিফেন গোমেজ দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত হন।

তাৎক্ষণিকভাবে তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

জর্জ স্টিফেন গোমেজের মৃত্যুতে সাংবাদিক মহল, খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং তার সহকর্মীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কাজ করা একজন নিবেদিত সংবাদকর্মীর এভাবে প্রাণ হারানোকে অপূরণীয় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন সহকর্মীরা।

ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং দ্রুত তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশে ডাকাতির ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। তবে একই রাতে একটি গির্জা এবং খ্রিস্টান পরিবারের বাড়িতে হামলা, ধর্মযাজকের ওপর শারীরিক নির্যাতন এবং একজন সাংবাদিকের নিহত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে।

সুশীল সমাজ ও সম্প্রদায়ের নেতারা দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপাসনালয় ও বসতবাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত সাংবাদিক জর্জ স্টিফেন গোমেজের আত্মার শান্তি কামনা করা হয়েছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে আহত ফাদার সুবাস গমেজের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন অনেকে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।