চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশ বাংলাদেশের অন্যতম প্রাচীন ক্যাথলিক ধর্মীয় অঞ্চল। চট্টগ্রামে খ্রিস্টধর্মের আগমন ঘটে ১৫১৭ সালে, যখন পর্তুগিজ বণিকেরা এই বন্দরনগরীতে আসেন। পরবর্তীতে ১৫৩৭ সালে পর্তুগিজদের স্থায়ী বসতি গড়ে ওঠে এবং ১৬০০ সালে পাথরঘাটা, জামালখান ও দিয়াং এলাকায় তিনটি গির্জা প্রতিষ্ঠিত হয়।
Thank you for reading this post, don't forget to subscribe!১৫৯৮ সালে যিশু সমাজের (Jesuits) মিশনারি ফাদার ফ্রান্সিসকো ফার্নান্দেজ, এস.জে. চট্টগ্রামে আগমন করেন। তিনি বাংলার প্রথম শহীদ মিশনারি হিসেবে পরিচিত। ১৬০২ সালে ধর্মপ্রচারের সময় তিনি নির্যাতনের শিকার হন এবং বন্দিদশায় মৃত্যুবরণ করেন।
১৮৪৫ সালে চট্টগ্রাম পূর্ববঙ্গের প্রথম অ্যাপোস্টলিক ভিকারিয়েটের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে প্রশাসনিক সদর দপ্তর ঢাকায় স্থানান্তরিত হলেও চট্টগ্রাম অঞ্চলে চার্চের ধর্মপ্রচার ও শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। ১৮৫৩ সালে হোলি ক্রস (CSC) মিশনারিরা নোয়াখালীতে তাদের কার্যক্রম শুরু করেন, যা পরবর্তীতে সমগ্র অঞ্চলে ক্যাথলিক চার্চের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
২৫ মে ১৯২৭ সালে ঢাকা ধর্মপ্রদেশ থেকে পৃথক হয়ে চট্টগ্রাম ধর্মপ্রদেশ (Diocese of Chittagong) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। নবগঠিত ধর্মপ্রদেশের দায়িত্ব কানাডিয়ান Congregation of Holy Cross (CSC)-এর ওপর অর্পণ করা হয়। সে সময় এর অধীনে বর্তমান চট্টগ্রাম বিভাগের পাশাপাশি বরিশাল অঞ্চল এবং ভারত ও মিয়ানমারের কিছু এলাকাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
১৫ জুলাই ১৯৫০ সালে ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশ প্রতিষ্ঠিত হলে চট্টগ্রাম ধর্মপ্রদেশ তার অধীনস্থ (Suffragan) ধর্মপ্রদেশে পরিণত হয়। পরবর্তীকালে বিভিন্ন সময়ে এর সীমানা পুনর্গঠিত হয়। ২০১৫ সালে বরিশাল ধর্মপ্রদেশ পৃথক হয় এবং ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ সালে পোপ ফ্রান্সিস চট্টগ্রাম ধর্মপ্রদেশকে চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশ (Metropolitan Archdiocese of Chattogram) হিসেবে উন্নীত করেন। একই সঙ্গে খুলনা ও বরিশাল ধর্মপ্রদেশকে এর অধীনস্থ ধর্মপ্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়।
বর্তমানে চট্টগ্রাম মহাধর্মপ্রদেশের নেতৃত্বে রয়েছেন মহামান্য আর্চবিশপ লরেন্স সুব্রত হাওলাদার, সিএসসি। মহাধর্মপ্রদেশটি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সমাজকল্যাণ, ধর্মীয় শিক্ষা এবং সুসমাচার প্রচারের মাধ্যমে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে চার্চের মিশনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

