ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশ বাংলাদেশের ক্যাথলিক চার্চের প্রাচীনতম ও প্রধান ধর্মীয় প্রশাসনিক কেন্দ্র। এর শিকড় ১৬শ শতাব্দীতে, যখন বর্তমান বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে সোনারগাঁওয়ের শ্রীরপুর এবং ময়মনসিংহের হোসেনপুর এলাকায় প্রথম ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিকাশ শুরু হয়।
১৬০৬ সালে ভারতের মাইলাপুর ধর্মপ্রদেশ প্রতিষ্ঠিত হলে বাংলার ক্যাথলিক মিশনগুলো তার অধীনে পরিচালিত হতে থাকে। পরবর্তীকালে অগাস্টিনীয় মিশনারিরা ঢাকার তেজগাঁও (১৬৭৭) ও নগরী (১৬৯৫)-সহ বিভিন্ন স্থানে গির্জা প্রতিষ্ঠা করে ক্যাথলিক বিশ্বাস প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৮৩৪ সালে ভিকারিয়েট অ্যাপোস্টলিক অব বেঙ্গল প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৮৫০ সালে এটি পূর্ব ও পশ্চিম বাংলায় বিভক্ত হয়। পূর্ব বাংলার ভিকারিয়েটের সদর দপ্তর স্থাপিত হয় ঢাকায় এবং এর দায়িত্ব অর্পণ করা হয় Congregation of Holy Cross (CSC)-এর ওপর। ১৮৫৩ সালে প্রথম হোলি ক্রস মিশনারিরা ঢাকায় এসে শিক্ষা, ধর্মপ্রচার ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রম শুরু করেন।
১ সেপ্টেম্বর ১৮৮৬ সালে ঢাকা ধর্মপ্রদেশ (Diocese of Dhaka) আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়। সে সময় এর অধীনে বর্তমান বাংলাদেশের চট্টগ্রামসহ ভারতের আসামের কিছু অঞ্চল এবং মিয়ানমারের একটি অংশও অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীকালে নতুন নতুন ধর্মপ্রদেশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই বিশাল অঞ্চল ধাপে ধাপে বিভক্ত হয়।
১৫ জুলাই ১৯৫০ সালে পোপ দ্বাদশ পায়াস ঢাকা ধর্মপ্রদেশকে মহাধর্মপ্রদেশ (Archdiocese)-এ উন্নীত করেন। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম, দিনাজপুর ও যশোর (বর্তমান খুলনা) ধর্মপ্রদেশকে এর অধীনস্থ (Suffragan) ধর্মপ্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বিশপ লরেন্স লিও গ্রেইনার, সিএসসি ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের প্রথম আর্চবিশপ হন।
১৯৬৭ সালে আর্চবিশপ থিওটোনিয়াস এ. গাঙ্গুলী, সিএসসি ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের প্রথম বাঙালি আর্চবিশপ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এরপর আর্চবিশপ মাইকেল রোজারিও, আর্চবিশপ পলিনুস কস্তা, কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও, সিএসসি এবং বর্তমানে আর্চবিশপ বেজয় নিসেফোরাস ডি’ক্রুজ, ওএমআই-এর নেতৃত্বে মহাধর্মপ্রদেশ বিশ্বাস, শিক্ষা ও সমাজসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
বর্তমানে ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশ বাংলাদেশের ক্যাথলিক চার্চের মাতৃধর্মপ্রদেশ হিসেবে পরিচিত। এখানেই অবস্থিত সেন্ট মেরিজ ক্যাথেড্রাল, আর্চবিশপের বাসভবন, সেমিনারি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সেবামূলক সংগঠনের প্রধান কার্যালয়। দেশের ক্যাথলিক চার্চের ইতিহাস, শিক্ষা ও ধর্মপ্রচার কার্যক্রমে ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
Source: GCatholic.org – Diocese Statistics; Archdiocese of Dhaka (Official Information).

