ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বারাসাতে সালেসিয়ান সিস্টারদের (ডটার্স অব মেরি হেল্প অব ক্রিশ্চিয়ানস–FMA) একটি কনভেন্টে ঢুকে প্রায় ৬০ জন হিন্দু জাতীয়তাবাদী কর্মী নির্মাণাধীন একটি চ্যাপেল ও কবরস্থান ভেঙে ফেলার দাবি জানিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দাবি না মানলে সিস্টারদের সহিংসতার হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে ক্যাথলিক নেতারা।
ঘটনাটি গত ১২ জুলাই ঘটে। কনভেন্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, চ্যাপেল ও কবরস্থান নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় সব সরকারি অনুমোদন আগেই নেওয়া হয়েছিল। এরপরও একদল ব্যক্তি কনভেন্টে প্রবেশ করে নির্মাণকাজ বন্ধ এবং স্থাপনাগুলো অপসারণের দাবি জানায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারীদের কয়েকজন বলেন, “এখন আর তোমাদের সরকার নেই, এখন আমাদের সরকার।” এই মন্তব্যকে স্থানীয় খ্রিস্টানরা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উদ্দেশে ভয়ভীতি প্রদর্শনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
ভারতের প্রাচীনতম ক্যাথলিক লে-সংগঠন অল ইন্ডিয়া ক্যাথলিক ইউনিয়ন (AICU) ঘটনাটিকে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত বলে অভিহিত করেছে। সংগঠনের সভাপতি ইলিয়াস ভাস বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিমবঙ্গে খ্রিস্টান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা হয়রানির ধারাবাহিকতার অংশ। তাঁর অভিযোগ, সিস্টারদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে আইনকে পাশ কাটানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
AICU পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছে সালেসিয়ান সিস্টারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, নির্মাণাধীন চ্যাপেল ও কবরস্থানের সুরক্ষা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, উপাসনালয় নির্মাণ ও পরিচালনা ভারতের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার এবং কোনো গোষ্ঠী ভয়ভীতি দেখিয়ে সেই অধিকার খর্ব করতে পারে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পশ্চিমবঙ্গের একজন জ্যেষ্ঠ ক্যাথলিক গির্জা নেতা জানান, গত দুই থেকে তিন সপ্তাহে রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে হামলা ও হয়রানির অভিযোগ বেড়েছে। ফলে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এখন অত্যন্ত জরুরি।
ক্যাথলিক নেতাদের মতে, বারাসাতের এই ঘটনা শুধু একটি কনভেন্টের নিরাপত্তার প্রশ্ন নয়; এটি ভারতের ধর্মীয় স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, সরকার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিচারের আওতায় এনে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইনের শাসন নিশ্চিত করবে।

