ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের ইতিহাস

ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের ইতিহাস
📊 ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশ: সংক্ষিপ্ত তথ্য
📅 প্রতিষ্ঠা ১৫ মে ১৯৮৭
📍 সদর দপ্তর ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ
⛪ ক্যাথেড্রাল সেন্ট প্যাট্রিকের ক্যাথেড্রাল
👤 বর্তমান বিশপ বিশপ পনেন পল কুবি,, CSC
🛡️ পৃষ্ঠপোষক সাধু সেন্ট প্যাট্রিক
👥 ক্যাথলিক বিশ্বাসী ৮৩,৮৯৬ জন
⛪ প্যারিশ ১৯টি
🏘️ মিশন ২টি
✝️ মোট পুরোহিত ৪৬ জন
👨 ডায়োসিসীয় পুরোহিত ৩০ জন
🙏 ধর্মীয় সংঘের পুরোহিত ১৬ জন
👨 Brothers ২৭ জন
👩 Sisters ১১১ জন
🎓 Seminarians ৪১ জন
তথ্যসূত্র: GCatholic.org, Catholic-Hierarchy.org এবং Diocese of Mymensingh-এর প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।

ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশ বাংলাদেশের ক্যাথলিক চার্চের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মপ্রদেশ। ১৫ মে ১৯৮৭ সালে পোপ সেন্ট জন পল দ্বিতীয় ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের একটি অংশ নিয়ে এই ধর্মপ্রদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭ সালে ধর্মপ্রদেশের কার্যক্রম শুরু হয় এবং একই দিনে প্রথম বিশপ ফ্রান্সিস অ্যান্টনি গোমেজ অভিষিক্ত হন।

তবে ময়মনসিংহ অঞ্চলে ক্যাথলিক চার্চের ইতিহাস আরও অনেক পুরোনো। ১৬শ শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুর এলাকায় ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া যায়। কিন্তু গারো জনগোষ্ঠীর মধ্যে সুসমাচার প্রচারের উল্লেখযোগ্য কাজ শুরু হয় ২০শ শতাব্দীর শুরুতে।

১৯০৯ সালে পাঁচজন গারো নেতা ঢাকায় গিয়ে ক্যাথলিক বিশপের কাছে একজন যাজক পাঠানোর অনুরোধ জানান। পরের বছর ফাদার ফ্লোরি, CSC এবং ব্রাদার ইউজিন, CSC এলাকাটি পরিদর্শন করেন। এরপর ১৯১০ সালের শেষ দিকে ও ১৯১১ সালের শুরুতে ফাদার অ্যাডলফ ফ্রান্সিস, CSC রানীখংয়ের নিকটবর্তী টাউসালপাড়ায় ধর্মপ্রচার কার্যক্রম শুরু করেন।

১৯ মার্চ ১৯১১ সালে টাউসালপাড়ায় প্রথম ২১ জন গারো ক্যাথলিক বিশ্বাসে বাপ্তিস্ম গ্রহণ করেন। এটি ময়মনসিংহ অঞ্চলের ক্যাথলিক চার্চের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ১৯১২ সালে টাউসালপাড়ায় গারো জনগোষ্ঠীর জন্য প্রথম গির্জা নির্মিত হয় এবং ১৯১৩ সালে ফাদার ফ্রান্সিস সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। পরে ১৯১৫ সালে তিনি রানীখং পাহাড়ে স্থানান্তরিত হন, যেখানে বর্তমানে রানীখং প্যারিশ অবস্থিত।

১৯১৮ সাল পর্যন্ত ফাদার ফ্রান্সিস প্রায় একাই বিস্তীর্ণ গারো অঞ্চলে ধর্মপ্রচার চালিয়ে যান। তাঁর নিরলস প্রচেষ্টার ফলে পরবর্তী প্রায় ২৫ বছরের মধ্যে গারো অধ্যুষিত এলাকায় একে একে ছয়টি প্যারিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।

ধর্মপ্রদেশ প্রতিষ্ঠার সময় ৮টি প্যারিশ ছিল। এগুলো হলো— রানীখং (১৯১২), ভালুকাপাড়া (১৯২৬), ময়মনসিংহ ক্যাথেড্রাল প্যারিশ (১৯২৭), বিরইডাকুনি (১৯২৮), বালুচরা (১৯৩০), মারিয়ামনগর (১৯৩৭), বড়মারী (১৯৪২) এবং জলছত্র (১৯৬০)

পরবর্তীতে ধর্মপ্রদেশের সম্প্রসারণের সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন প্যারিশ প্রতিষ্ঠিত হয়। বড়ুয়াকোনা (১৯৮৯), পীরগাছা (১৯৯৩), জলজলিয়া (২০০৬), উত্রাইল (২০০৯), দরগাছলা (২০১০), ঢাকুয়া (২০১১), দিঘলাকোনা (২০১৩), ধৈরপাড়া (২০১৭), গাজীরভিটা (২০১৯) এবং নলুয়াকুড়ি (২০২০) প্যারিশ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বর্তমানে ধর্মপ্রদেশের প্যারিশ সংখ্যা ১৮টিতে উন্নীত হয়েছে।

২৫ ডিসেম্বর ২০০৩ সালে পবিত্র ক্রুশ সংঘের (CSC) সদস্য ফাদার পোনেন পল কুবি ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের সহকারী বিশপ (Auxiliary Bishop) হিসেবে মনোনীত হন। ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০০৪ সালে তিনি বিশপ হিসেবে অভিষিক্ত হন। পরে ১৫ জুলাই ২০০৬ সালে পোপ বেনেডিক্ট ষোড়শ তাঁকে ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের দ্বিতীয় বিশপ হিসেবে নিয়োগ দেন এবং ১ সেপ্টেম্বর ২০০৬ সালে তাঁর আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ (Installation) অনুষ্ঠিত হয়।

বর্তমানে ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশের আওতায় ময়মনসিংহ, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, টাঙ্গাইল এবং সুনামগঞ্জ জেলা অন্তর্ভুক্ত। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, যুবসমাজের গঠন এবং সুসমাচার প্রচারের মাধ্যমে ধর্মপ্রদেশটি বাংলাদেশের ক্যাথলিক চার্চে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।