রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের ইতিহাস

রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের ইতিহাস
📊 রাজশাহী ধর্মপ্রদেশ: সংক্ষিপ্ত তথ্য
📅 প্রতিষ্ঠা ২১ মে ১৯৯০
📍 সদর দপ্তর রাজশাহী, বাংলাদেশ
⛪ ক্যাথেড্রাল ক্যাথেড্রাল অব ক্রাইস্ট দ্য রিডিমার
👤 বর্তমান বিশপ বিশপ জার্ভাস রোজারিও
🌍 মহাধর্মপ্রদেশ ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশ
🛡️ পৃষ্ঠপোষক সাধু যিশু, উত্তম মেষপালক (Good Shepherd)
👥 ক্যাথলিক বিশ্বাসী ৫৩,১৭০ জন
⛪ প্যারিশ ১৮টি
✝️ মোট পুরোহিত ৬৪ জন
👨 ডায়োসিসীয় পুরোহিত ৫৭ জন
🙏 ধর্মীয় সংঘের পুরোহিত ৭ জন
👨 Brothers ৬ জন
👩 Sisters ৯৭ জন
🎓 Seminarians ৪২ জন
তথ্যসূত্র: Rajshahi Catholic Diocese (Official Website), GCatholic.org এবং Catholic-Hierarchy-এর প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।

রাজশাহী ধর্মপ্রদেশ (Diocese of Rajshahi) বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ক্যাথলিক সম্প্রদায়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় প্রশাসনিক অঞ্চল। ২১ মে ১৯৯০ সালে পোপ সেন্ট জন পল দ্বিতীয় দিনাজপুর ধর্মপ্রদেশের দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। নবগঠিত এই ধর্মপ্রদেশটি ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের অধীনস্থ (Suffragan Diocese) হিসেবে যাত্রা শুরু করে।

রাজশাহী অঞ্চলে ক্যাথলিক বিশ্বাসের ইতিহাস ধর্মপ্রদেশ প্রতিষ্ঠার বহু আগের। ১৯০২ সালে ইতালির Pontifical Institute for Foreign Missions (PIME)-এর মিশনারি ফাদার ফ্রান্সেসকো রোক্কা বর্তমান বেনীদ্বার এলাকার নিকটবর্তী বেগুনবাড়ী গ্রামে আগমন করেন। তাঁর মাধ্যমে এই অঞ্চলে সুসমাচার প্রচারের কাজ শুরু হয়। পরবর্তীকালে মুন্ডা, সাঁওতাল, মাহালী এবং মাল-পাহাড়িয়া জনগোষ্ঠীর মধ্যে ক্যাথলিক বিশ্বাস ধীরে ধীরে বিস্তার লাভ করে।

১৯২৫ সাল থেকে ভাওয়াল অঞ্চলের অনেক বাঙালি ক্যাথলিক পরিবার পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলে বসতি স্থাপন শুরু করে। তাদের ধর্মীয় সেবার জন্য পর্যায়ক্রমে মথুরাপুর (১৯২৫), বনপাড়া (১৯৪০) এবং মারিয়াবাদ/বরনী (১৯৪৯) প্যারিশ প্রতিষ্ঠিত হয়। এসব প্যারিশ পরবর্তীতে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশ গঠনের ভিত্তি তৈরি করে।

দিনাজপুর ধর্মপ্রদেশের ব্যাপক ভৌগোলিক বিস্তৃতি এবং উত্তরবঙ্গে চার্চের ক্রমবর্ধমান কার্যক্রমের কারণে একটি নতুন ধর্মপ্রদেশ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সেই প্রেক্ষাপটে ২১ মে ১৯৯০ সালে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং বিশপ প্যাট্রিক ডি’রোজারিও, সিএসসি প্রথম বিশপ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর নেতৃত্বে নবগঠিত ধর্মপ্রদেশের প্রশাসনিক কাঠামো, প্যারিশ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মীয় কার্যক্রম সুসংগঠিত হয়।

পরবর্তীতে বিশপ পলিনুস কস্তা ১৯৯৬ সালে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের দ্বিতীয় বিশপ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০০৫ সালে তিনি ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হলে ধর্মপ্রদেশের প্রশাসনিক দায়িত্ব অস্থায়ীভাবে পরিচালিত হয়। এরপর ২২ মার্চ ২০০৭ সালে বিশপ জার্ভাস রোজারিও রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের তৃতীয় বিশপ হিসেবে অভিষিক্ত হন এবং বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বে ধর্মপ্রদেশটি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক উন্নয়ন, আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কল্যাণ এবং সুসমাচার প্রচারের মাধ্যমে চার্চের মিশনকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে, ২৫ মার্চ ২০২৬ সালে, রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকা নিয়ে জয়পুরহাট ধর্মপ্রদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। এর ফলে রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের প্রশাসনিক সীমানায় পরিবর্তন আসে এবং উত্তরবঙ্গে চার্চের যাজকীয় সেবা আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার সুযোগ সৃষ্টি হয়।