দুই পোপের বাংলাদেশে ঐতিহাসিক প্রেরিতিক সফর নিয়ে ভ্যাটিকান জাদুঘরে বিশেষ প্রদর্শনী

pope visit Bangladesh

সাধু পোপ দ্বিতীয় জন পল (১৯৮৬) ও পোপ ফ্রান্সিসের (২০১৭) বাংলাদেশ সফরের স্মৃতি তুলে ধরবে ‘Due visite apostoliche in Bangladesh’ প্রদর্শনী

আগামী ৪ আগস্ট থেকে ভ্যাটিকান জাদুঘরের অনিমা মুন্ডি নৃতাত্ত্বিক জাদুঘরে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশকে ঘিরে বিশেষ প্রদর্শনী—“বাংলাদেশে দুটি প্রেরিতিক সফর” (Due visite apostoliche in Bangladesh)। প্রদর্শনীতে ১৯৮৬ সালে সাধু পোপ দ্বিতীয় জন পল এবং ২০১৭ সালে পোপ ফ্রান্সিসের ঐতিহাসিক বাংলাদেশ সফরের স্মৃতি ও তাৎপর্য তুলে ধরা হবে।

প্রদর্শনীটি বাংলাদেশের সঙ্গে ক্যাথলিক মণ্ডলীর সম্পর্কের সাম্প্রতিক ইতিহাসের দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে সামনে আনবে। একই সঙ্গে আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বাংলাদেশের শৈল্পিক ঐতিহ্যের বিভিন্ন দিকও এতে প্রতিফলিত হবে।

প্রদর্শনীর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ একটি ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি রিকশা, যা ১৯৮৬ সালে ঢাকায় প্রেরিতিক সফরের সময় সাধু পোপ দ্বিতীয় জন পল ব্যবহার করেছিলেন। পরে রিকশাটি ভ্যাটিকান জাদুঘরে দান করা হয়। বাংলাদেশের দৈনন্দিন জীবন ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম প্রতীক এই রিকশা এখন বাংলাদেশের মানুষের প্রতি পোপদের ঘনিষ্ঠতা এবং এ দেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সংলাপের স্মারক হয়ে উঠেছে।

সাধু পোপ দ্বিতীয় জন পলের ১৯৮৬ সালের সফর

প্রদর্শনীতে স্থান পাচ্ছে আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত বাংলাদেশি জলরঙ শিল্পী আলোকেশ ঘোষের একটি চিত্রকর্ম। এতে ১৯৮৬ সালের ১৯ নভেম্বর সাধু পোপ দ্বিতীয় জন পলের ঐতিহাসিক বাংলাদেশ সফরের স্মৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এশিয়া ও ওশেনিয়া সফরের অংশ হিসেবে তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন।

চিত্রকর্মটিতে পোপকে একটি রিকশায় এবং তাঁর চারপাশে মণ্ডলী ও স্থানীয় জনগণের সদস্যদের উপস্থিতিতে দেখানো হয়েছে। পুরো চিত্রটি সাক্ষাৎ, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার বার্তা বহন করে।

বাংলাদেশ সফরকালে সাধু পোপ দ্বিতীয় জন পল ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়বিচার ও শান্তির আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে সাধারণ কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরেছিলেন।

পোপ ফ্রান্সিসের ২০১৭ সালের সফর

প্রদর্শনীতে থাকা দ্বিতীয় চিত্রকর্মটি বাংলাদেশের সমসাময়িক চিত্রকলার বিশিষ্ট শিল্পী আহমেদ শামসুদোহার সৃষ্টি। এটি ৩০ নভেম্বর থেকে ২ ডিসেম্বর ২০১৭ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পোপ ফ্রান্সিসের বাংলাদেশে প্রেরিতিক সফরকে কেন্দ্র করে নির্মিত। সেই সফরের মূল প্রতিপাদ্য ছিল “সম্প্রীতি ও শান্তি”

বাংলার শিল্প-ঐতিহ্যের অভিব্যক্তি ও প্রাণবন্ত রঙের ব্যবহারে শিল্পী পোপ ফ্রান্সিসকে সুসজ্জিত রিকশায় বসে জনতার উদ্দেশে আশীর্বাদের ভঙ্গিতে শুভেচ্ছা জানাতে চিত্রিত করেছেন।

চিত্রকর্মটিতে পোপ ফ্রান্সিসের বাংলাদেশ সফরের গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো—আন্তঃধর্মীয় সংলাপ, পুনর্মিলন, দুর্বল ও প্রান্তিক মানুষের প্রতি সংহতি এবং মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি সহমর্মিতা—শৈল্পিকভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এটি তাঁর সেই বার্তারও প্রতিফলন, যেখানে ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য অতিক্রম করে শ্রবণ, সহমর্মিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্প্রীতি গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

সংরক্ষণ করা হয়েছে দুটি ঐতিহাসিক চিত্রকর্ম

প্রদর্শনী উপলক্ষে বাংলাদেশে অবস্থিত অ্যাপোস্টলিক নানসিয়েচারের সংগ্রহে থাকা দুটি চিত্রকর্ম বিশেষভাবে সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। ভ্যাটিকান জাদুঘরের চিত্রকর্ম ও কাঠের উপকরণ পুনরুদ্ধার গবেষণাগারের বিশেষজ্ঞরা চিত্রগুলোর পৃষ্ঠ পরিষ্কার এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনঃসংযোজনের মাধ্যমে সেগুলোর মূল সৌন্দর্য ও পাঠযোগ্যতা ফিরিয়ে এনেছেন।

ভ্যাটিকানের এই বিশেষ প্রদর্শনী শুধু দুই পোপের বাংলাদেশ সফরের ঐতিহাসিক স্মৃতিকেই তুলে ধরছে না; একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের শিল্প ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকেও নতুনভাবে উপস্থাপন করছে। মানুষের মধ্যে সাক্ষাৎ, পারস্পরিক বোঝাপড়া, শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠার সর্বজনীন ভাষা হিসেবে শিল্পের ভূমিকাও এর মাধ্যমে পুনর্ব্যক্ত হচ্ছে।

Source: VATICAN MUSEUMS

Courtesy: Cardinal Patrick D’Rozario, CSC

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *