আন্তর্জাতিক ক্যাথলিক যুব আন্দোলন Jesus Youth-এর প্রার্থনা ও মিশনারি কার্যক্রমের চার দশক পূর্তি উপলক্ষে ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘GO Conference 2026’। আগামী ২০ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত আয়োজিত এ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের যুবক-যুবতী, বিশপ, যাজক, সিস্টার ও মণ্ডলীর নেতৃবৃন্দ অংশ নেবেন। সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হলো খ্রিষ্টকেন্দ্রিক জীবনযাপন, পারস্পরিক ঐক্য এবং সুসমাচার প্রচারে যুবসমাজের অংশগ্রহণ আরও জোরদার করা।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৪১টি দেশের মোট ১ হাজার ১২৮ জন প্রতিনিধি সম্মেলনে অংশ নেবেন। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন ১৫ জন বিশপ, ৬৩ জন যাজক, ১২ জন সিস্টার এবং এক হাজারেরও বেশি খ্রিস্টভক্ত।
সার্বজনীন মণ্ডলীর প্রাণকেন্দ্র রোমে আয়োজিত এ সম্মেলন Jesus Youth-এর সদস্যদের জন্য বিশ্বাস নবায়ন, পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং ভবিষ্যতের মিশনারি দায়িত্ব গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
চারটি মূল ভাবনায় সাজানো সম্মেলন
সম্মেলনটির কার্যক্রম সাজানো হয়েছে চারটি মূল ভাবনাকে কেন্দ্র করে—ঐক্য (Communion – Grow Together), মিশন (Mission – Love Beyond Borders), অংশগ্রহণ (Participation – Walking Together as a Synodal Movement) এবং প্রেরণ (Sending – Go to the Ends of the Earth)।
২০ অক্টোবর প্রতিনিধিদের আগমনের মধ্য দিয়ে সম্মেলন শুরু হবে। পরবর্তী দিনগুলোতে পারস্পরিক ঐক্য গড়ে তোলা, সীমান্ত অতিক্রম করে ভালোবাসা ছড়িয়ে দেওয়া, সিনোডাল চেতনায় একসঙ্গে পথচলা এবং পৃথিবীর প্রান্তসীমা পর্যন্ত সুসমাচার পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন আলোচনা ও কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্যাথলিক আন্দোলনের প্রতিনিধিরাও এতে অংশ নেবেন। ২৫ অক্টোবর সম্মেলনের সমাপনী দিনে কান্নুরের বিশপ এবং Jesus Youth-এর মণ্ডলীয় উপদেষ্টা বিশপ অ্যালেক্স যোসেফ ভাদাকুমথালা সমাপনী পবিত্র খ্রিস্টযাগ উদযাপন করবেন।
কেরালা থেকে বিশ্বব্যাপী Jesus Youth-এর যাত্রা
Jesus Youth আন্দোলনের সূচনা ভারতের কেরালা রাজ্যে, ১৯৮০-এর দশকে ক্যারিসম্যাটিক নবজাগরণের প্রেক্ষাপটে। ১৯৮৫ সালে আন্তর্জাতিক যুববর্ষ উপলক্ষে একদল যুবক-যুবতী প্রার্থনা, ভ্রাতৃত্ব ও সুসমাচার প্রচারের উদ্দেশ্যে একত্রিত হন। ধীরে ধীরে তাঁদের এই উদ্যোগ Jesus Youth নামে পরিচিতি লাভ করে।
কেরালার ছোট ছোট প্রার্থনাগোষ্ঠী থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলন পরবর্তীকালে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হয়। বর্তমানে ৫০টিরও বেশি দেশে এ আন্দোলনের কার্যক্রম রয়েছে। ২০১৬ সালে Jesus Youth পোপীয় স্বীকৃতি লাভ করে, যা সার্বজনীন মণ্ডলীতে আন্দোলনটির পথচলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
ছয়টি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত আধ্যাত্মিকতা
Jesus Youth-এর আধ্যাত্মিক জীবন ছয়টি ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত—প্রার্থনা, ঈশ্বরের বাণী, সাক্রামেন্তসমূহ, ভ্রাতৃত্ব, সুসমাচার প্রচার এবং দরিদ্রদের প্রতি বিশেষ অগ্রাধিকার।
ব্যক্তিগত ও সমবেত প্রার্থনা, পবিত্র বাইবেলের বাণী নিয়ে ধ্যান এবং পবিত্র খ্রিস্টযাগ ও পুনর্মিলন সাক্রামেন্তে নিয়মিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সদস্যদের পবিত্র জীবনযাপনে উৎসাহিত করা হয়। একই সঙ্গে ভ্রাতৃত্বের মধ্য দিয়ে খ্রিস্টীয় সম্প্রদায়ের বন্ধন দৃঢ় করা, সুসমাচারের আনন্দ অন্যদের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সেবায় আত্মনিয়োগ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
একটি সাধারণ খ্রিস্টভক্তদের আন্দোলন হিসেবে Jesus Youth পরিবার, বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, কর্মক্ষেত্র, ধর্মপল্লী ও সমাজের বিভিন্ন পরিসরে সুসমাচারের মূল্যবোধ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। দৈনন্দিন জীবনে খ্রিষ্টীয় বিশ্বাসের সাক্ষ্য বহন এবং সেবামূলক কাজের মাধ্যমে খ্রিষ্টকে অন্যদের কাছে উপস্থাপন করাই এ আন্দোলনের অন্যতম লক্ষ্য।
যুবসমাজকে মিশনের পথে আহ্বান
Jesus Youth-এর পথচলায় সংগীত ও সৃজনশীলতারও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্ন ব্যান্ড ও সংগীতভিত্তিক উদ্যোগের মাধ্যমে যুবক-যুবতীরা নিজেদের বিশ্বাসের আনন্দ অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। গত চার দশকে এ আন্দোলনের মাধ্যমে অনুপ্রাণিত অনেকেই মণ্ডলীর বিভিন্ন সেবাকাজ, আহ্বান ও মিশনারি কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন।
তাই রোমে অনুষ্ঠিতব্য ‘GO Conference 2026’ কেবল একটি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন নয়; বরং অতীতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং ভবিষ্যতের মিশনারি দায়িত্ব গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
কেরালার ছোট্ট প্রার্থনাগোষ্ঠী থেকে বিশ্বব্যাপী ক্যাথলিক যুব আন্দোলনে পরিণত হওয়া Jesus Youth-এর চার দশকের যাত্রা বিশ্বাস, ভ্রাতৃত্ব ও সুসমাচার প্রচারের শক্তির সাক্ষ্য বহন করে।
রোমে সমবেত যুবসমাজের সামনে তাই নতুন করে প্রতিধ্বনিত হবে মণ্ডলীর আহ্বান—খ্রিষ্টের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা, ঐক্যবদ্ধভাবে পথচলা এবং সুসমাচারের আনন্দ নিয়ে পৃথিবীর প্রান্তসীমা পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়া।

