পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ায় গির্জায় হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

পশ্চিমবঙ্গের নদিয়ায় গির্জায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ

নদিয়া, পশ্চিমবঙ্গ | ১০ অক্টোবর ২০২৬ | BCM News Desk

পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরের কাছে জলালখালির ডিভাইন রিট্রিট সেন্টার গির্জায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার সন্ধ্যায় গির্জায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলাকালে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গির্জায় ধর্মান্তরকরণ হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কয়েকজন সমর্থক। এ সময় গির্জার বাইরে হনুমান চালিশা পাঠের আয়োজন করে বজরং দল। এর কিছুক্ষণ পরেই গির্জা লক্ষ্য করে ইট-পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। গির্জার ফাদার ভিনসেন্ট জর্জের দাবি, ইট-পাথরের আঘাতে প্রভু যিশুর মূর্তির ঢাকনার কাচ ভেঙে যায়।

অন্যদিকে, বিশ্ব হিন্দু পরিষদের পক্ষ থেকেও গির্জার দিক থেকে হামলা চালানোর পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়েছে। ফলে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

ঘটনার পর ফাদার ভিনসেন্ট জর্জ নদিয়া জেলার জেলাশাসক শ্রীকান্ত পল্লিকে ফোনে বিষয়টি জানান। জেলাশাসক বলেন, “বিষয়টি জেনেই আমি পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করি। পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে পৌঁছে যায়।” পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাত পর্যন্ত গির্জার পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। এলাকায় উত্তেজনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর এ ধরনের আক্রমণ শুধু তাঁদের নিরাপত্তার ওপর আঘাত নয়, বরং ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবাধিকার ও সাংবিধানিক মূল্যবোধের ওপরও আঘাত। বিবৃতিতে ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের কথা উল্লেখ করে প্রত্যেক নাগরিকের নিজস্ব ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসরণ এবং মর্যাদার সঙ্গে বেঁচে থাকার অধিকারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিদাতারা প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্তকরণ এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। বিবৃতিতে বলা হয়, “ধর্মীয় বিদ্বেষ নয়, সম্প্রীতি চাই। ভয় নয়, নিরাপত্তা চাই। অন্যায় নয়, ন্যায়বিচার চাই।”

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ এখন গুরুত্বপূর্ণ। হামলা ও পাল্টা হামলার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।