মেডজুগোরিয়ে, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা | ২৯ জুলাই ২০২৬
বসনিয়া-হার্জেগোভিনার বিশ্বখ্যাত ক্যাথলিক তীর্থস্থান মেডজুগোরিয়েতে ধন্য কুমারী মারিয়ার পবিত্র মূর্তি বিকৃত করা এবং সেন্ট জেমস ধর্মপল্লীর প্রার্থনাস্থলে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটে ২৮ জুলাই ভোররাতে, যখন এক ব্যক্তি অ্যাপারিশন হিল (পোদব্রদো) ও ব্লু ক্রস এলাকায় স্থাপিত একাধিক পবিত্র মূর্তিতে কালো রঙ ছিটিয়ে অবমাননাকর গ্রাফিতি লিখে যায়। একই সময়ে সেন্ট জেমস ধর্মপল্লীর উন্মুক্ত প্রার্থনা বেদিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ভোর সাড়ে ৪টার দিকে প্রথম ভাঙচুরের খবর পাওয়া যায়। নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে বেদির কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও গির্জার মূল ভবন রক্ষা পায় এবং বড় ধরনের হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
তদন্তকারীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে একজন ব্যক্তিকে আটক করেছেন। তবে তদন্ত চলমান থাকায় তার পরিচয় বা হামলার উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পুলিশ ঘটনাটি একক ব্যক্তির কাজ নাকি পরিকল্পিত হামলার অংশ—তা খতিয়ে দেখছে।
ঘটনার পর মেডজুগোরিয়ে ধর্মপল্লী এক বিবৃতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে জানায়, এটি কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনার ক্ষতিসাধন নয়, বরং অসংখ্য বিশ্বাসীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত। একই সঙ্গে ধর্মপল্লী বিশ্বাসীদের প্রতি শান্ত, সংযমী ও খ্রিস্টীয় মনোভাব বজায় রাখার আহ্বান জানায়।
বিবৃতিতে বলা হয়, “ঘৃণার জবাব ঘৃণায় নয়; প্রার্থনা, উপবাস ও ক্ষমার মাধ্যমে আমরা প্রতিক্রিয়া জানাই।” ধর্মপল্লী আরও জানায়, যারা এই কাজ করেছে তাদের জন্যও প্রার্থনা করা হচ্ছে, যেন ঈশ্বর তাদের হৃদয় স্পর্শ করেন এবং সত্য ও শান্তির পথে ফিরিয়ে আনেন।

উল্লেখ্য, মেডজুগোরিয়ে (Medjugorje) বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার একটি ছোট গ্রাম, যা ১৯৮১ সাল থেকে ধন্য কুমারী মারিয়ার কথিত আবির্ভাবের দাবির কারণে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করে। বর্তমানে এটি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্যাথলিক তীর্থস্থানের একটি, যেখানে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো তীর্থযাত্রী প্রার্থনা, অনুতাপ এবং আধ্যাত্মিক নবায়নের উদ্দেশ্যে সমবেত হন। ২০২৪ সালে পোপীয় দফতর মেডজুগোরিয়ের আধ্যাত্মিক গুরুত্বকে স্বীকৃতি দিয়ে সেখানে সংগঠিত তীর্থযাত্রার অনুমোদন প্রদান করে।
ঘটনার পর আন্তর্জাতিক ক্যাথলিক মহল, বিভিন্ন খ্রিস্টীয় সংগঠন এবং বিশ্ব গণমাধ্যম এ হামলার নিন্দা জানিয়েছে। তারা ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
সংবাদ সূত্র: Vatican News, Associated Press (AP), Medjugorje Parish Office, National Catholic Reporter।

