সিলেট ধর্মপ্রদেশের ইতিহাস

সিলেট ধর্মপ্রদেশের ইতিহাস
📊 সিলেট ধর্মপ্রদেশ: সংক্ষিপ্ত তথ্য
📅 প্রতিষ্ঠা ৮ জুলাই ২০১১
📍 সদর দপ্তর সিলেট, বাংলাদেশ
⛪ প্রো-ক্যাথেড্রাল ডিভাইন মার্সি চার্চ, মৌলভীবাজার
👤 বর্তমান বিশপ বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গোমেজ
👥 ক্যাথলিক বিশ্বাসী ১৯,৮৩৬ জন
⛪ প্যারিশ ৭টি
✝️ মোট পুরোহিত ২১ জন
👨 ডায়োসিসীয় পুরোহিত ৮ জন
🙏 ধর্মীয় সংঘের পুরোহিত ১৩ জন
👨 Brothers ১৮ জন
👩 Sisters ৫১ জন
🎓 Seminarians ৫ জন
তথ্যসূত্র: GCatholic.org, Catholic-Hierarchy.org এবং Diocese of Sylhet-এর প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত।

সিলেট ধর্মপ্রদেশ (Diocese of Sylhet) বাংলাদেশের অন্যতম নবীন ক্যাথলিক ধর্মপ্রদেশ। ৮ জুলাই ২০১১ সালে পোপ বেনেডিক্ট ষোড়শ ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের একটি অংশ নিয়ে সিলেট ধর্মপ্রদেশ প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এটি ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের অধীনস্থ (Suffragan Diocese) হিসেবে পরিচালিত হয়ে আসছে।

সিলেট অঞ্চলে ক্যাথলিক চার্চের ইতিহাস ধর্মপ্রদেশ প্রতিষ্ঠার অনেক আগের। ব্রিটিশ আমলে চা-বাগানের শ্রমিক, খাসিয়া ও অন্যান্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে ধর্মীয় সেবা মূলত ভারতের আসাম অঞ্চলের ক্যাথলিক মিশনের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। দেশভাগের (১৯৪৭) পর এই অঞ্চলের যাজকীয় দায়িত্ব ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের অধীনে আসে। এরপর ধীরে ধীরে শ্রীমঙ্গল, সুনামগঞ্জ, খাদিমনগর, জাফলং, বড়লেখা ও অন্যান্য এলাকায় মিশন ও প্যারিশ প্রতিষ্ঠিত হয়।

বিশেষ করে Oblates of Mary Immaculate (OMI) এবং Congregation of Holy Cross (CSC)-এর মিশনারিরা সিলেট অঞ্চলে সুসমাচার প্রচার, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের উদ্যোগে নতুন নতুন প্যারিশ, বিদ্যালয় এবং সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে।

ধর্মপ্রদেশ প্রতিষ্ঠার সময় বিশপ বেজয় নিসেফোরাস ডি’ক্রুজ, OMI প্রথম বিশপ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা মহাধর্মপ্রদেশের আর্চবিশপ হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হলে ১২ মে ২০২১ সালে বিশপ শরৎ ফ্রান্সিস গোমেজ সিলেট ধর্মপ্রদেশের দ্বিতীয় বিশপ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বর্তমানে সিলেট ধর্মপ্রদেশ সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ জেলার ক্যাথলিক সম্প্রদায়কে আধ্যাত্মিক ও যাজকীয় সেবা প্রদান করছে। শিক্ষা, ধর্মপ্রচার, সামাজিক উন্নয়ন এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কল্যাণে ধর্মপ্রদেশটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।