সিস্টার মেরি জনের প্রথম ব্রতগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

সিস্টারস অফ চ্যারিটি অফ সাধু ভিনসেন্ট ডি’ পল সংঘের সিস্টার মেরি জনের প্রথম ব্রতগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ৭ আগস্ট ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ময়মনসিংহ কাথিড্রাল ধর্মপল্লীতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পবিত্র খ্রিস্টযাগ উৎসর্গ করেন রাজশাহী ধর্মপ্রদেশের বিশপ জেভার্স রোজারিও।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ধর্মপ্রদেশের যাজকগণ, কোরিয়া থেকে আগত সংঘের সুপিরিয়র জেনারেল সিস্টার আলফন্সা, এসসিভি, কোরিয়া ও ফিলিপাইন থেকে আগত অন্যান্য সিস্টার এবং বাংলাদেশে সেবাদানরত বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সিস্টারগণ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও সিস্টার মেরি জনের আত্মীয়স্বজন ও কয়েকশত খ্রিস্টভক্ত অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

পবিত্র খ্রিস্টযাগের উপদেশ বাণীতে বিশপ জেভার্স রোজারিও ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, প্রচার ও সেবাকাজের জন্য ঈশ্বর সিস্টার মেরি জনকে বেছে নিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সিস্টার মেরি জন সিস্টারস অফ চ্যারিটি অফ সাধু ভিনসেন্ট ডি’ পল সংঘের ক্যারিজম বিশ্বস্ততার সঙ্গে পালন করে মণ্ডলীতে সেবা দিয়ে যাবেন।

প্রথম ব্রতগ্রহণের অনুভূতি ব্যক্ত করে সিস্টার মেরি জন বলেন, ঈশ্বর তাঁকে তাঁর দ্রাক্ষাক্ষেতে কাজ করার জন্য আহ্বান করেছেন। তিনি তাঁর সেবাব্রতে বিশ্বস্ত থেকে সম্প্রদায়ের জন্য কাজ করতে পারেন—এজন্য সকলের কাছে প্রার্থনা কামনা করেন।

সংঘের সুপিরিয়র জেনারেল সিস্টার আলফন্সা বলেন, সিস্টার মেরি জনের ব্রতগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রভু ঈশ্বর মণ্ডলী ও সংঘকে বিশেষ আশীর্বাদ দান করেছেন। তিনি মঙ্গলসমাচারের শিক্ষা অনুসারে পবিত্রতা, দারিদ্র্য ও বাধ্যতার ব্রত গ্রহণ করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ব্রতীয় জীবন হলো ঈশ্বরের উদ্দেশে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে উৎসর্গ করার এক পবিত্র আহ্বান। প্রভু ঈশ্বর সিস্টার মেরি জনকে এই আহ্বানের প্রতি বিশ্বস্ত থেকে জীবনযাপন করার শক্তি দেবেন এবং তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপে পথপ্রদর্শন করবেন।

সিস্টার আলফন্সা জানান, সাধু ভিনসেন্ট দে পলের আদর্শ অনুসরণ করে দরিদ্রের মধ্যে খ্রিস্টকে আবিষ্কার করা এবং তাঁদের সেবার মাধ্যমে প্রভুর সেবা করাই সংঘের আধ্যাত্মিকতার কেন্দ্রবিন্দু। তিনি বলেন, দারিদ্র্য শুধু বস্তুগত অভাবের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; অসুস্থ, সমাজের প্রান্তিক, অবহেলিত, নিঃসঙ্গ ও দুর্বল মানুষও ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও সেবার দাবিদার।

মথি ২৫:৪০ পদে যিশুর বাণী উল্লেখ করে সিস্টার আলফন্সা বলেন, ক্ষুদ্রতম মানুষের সেবার মধ্য দিয়েই খ্রিস্টের সেবা করা হয়। বাংলাদেশে এই আহ্বান বিশ্বস্ততার সঙ্গে বাস্তবায়নে তাঁরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাবেন বলেও জানান তিনি। এ সেবাকাজকে আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ করতে সকলের প্রার্থনা, সহযোগিতা ও ভালোবাসা কামনা করেন।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে সিস্টারস অফ চ্যারিটি অফ সাধু ভিনসেন্ট ডি’ পল সংঘের সিস্টারগণ ময়মনসিংহ ধর্মপ্রদেশে এসে সাধু ভিনসেন্ট ডি’ পল সিক সেন্টারে সেবাকাজ শুরু করেন। আর্ত-পীড়িত ও দীন-দরিদ্র মানুষের সেবা করাই এ সংঘের প্রধান ক্যারিজম। সেই লক্ষ্যেই সংঘের সিস্টারগণ বাংলাদেশে তাঁদের সেবাকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *