২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ভারতের বেঙ্গালুরুর সেন্ট জন’স ন্যাশনাল একাডেমি অব হেলথ সায়েন্সেসে শুরু হয়েছে CCBI নির্বাহী কমিটির সভা — কনফারেন্স অব ক্যাথলিক বিশপস অব ইন্ডিয়া (CCBI)-এর ঐতিহাসিক ১০০তম অধিবেশন। দুই দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ সভা ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সভায় ভারতের ক্যাথলিক মণ্ডলীর বিভিন্ন পালকীয় কার্যক্রম, কমিশন ও মিশনারি কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি বর্তমান সময়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে মতবিনিময় এবং মণ্ডলীর ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও কার্যকর ও সমন্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে।
CCBI নির্বাহী কমিটির সভা ভারতের ক্যাথলিক মণ্ডলীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘদিনের এই প্রাতিষ্ঠানিক পথচলায় নির্বাহী কমিটির শততম সভা দেশের ক্যাথলিক নেতৃত্বের মধ্যে সহযোগিতা, সমন্বয় ও পালকীয় পরিকল্পনার গুরুত্বকে নতুনভাবে তুলে ধরছে।
CCBI কী এবং এর ভূমিকা
কনফারেন্স অব ক্যাথলিক বিশপস অব ইন্ডিয়া (CCBI) হলো ভারতের ল্যাটিন রীতির ক্যাথলিক বিশপদের সর্বোচ্চ সংগঠন, যা দেশজুড়ে ক্যাথলিক মণ্ডলীর পালকীয়, শিক্ষামূলক, সামাজিক ও মিশনারি কার্যক্রম সমন্বয় করে থাকে। বিভিন্ন ধর্মপ্রদেশের বিশপদের মধ্যে সংযোগ স্থাপন, নীতিনির্ধারণী আলোচনা এবং জাতীয় পর্যায়ে মণ্ডলীর অবস্থান স্পষ্ট করার ক্ষেত্রে এই সংগঠনের ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাহী কমিটি CCBI-এর একটি মূল কাঠামো, যেখানে নিয়মিত সভার মাধ্যমে সংগঠনের বিভিন্ন কমিশনের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয় এবং নতুন উদ্যোগের রূপরেখা তৈরি করা হয়। এবারের ১০০তম সভা তাই শুধু একটি বৈঠক নয়, বরং প্রায় শতাধিক সভার একটি ধারাবাহিকতার প্রতীকী মাইলফলক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।
CCBI-এর সংক্ষিপ্ত ইতিহাস:
ভারতের ক্যাথলিক বিশপদের জাতীয় সম্মেলন CBCI ১৯৪৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় ভ্যাটিকান মহাসভার পর এর কাঠামো আরও বিস্তৃত হয়। ১৯৮৭ সালে পোপ সাধু দ্বিতীয় জন পলের নির্দেশনার পর তিনটি রীতির বিশপদের পৃথক Episcopal Body গঠনের সুযোগ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৮৮ সালের এপ্রিল মাসে লাতিন রীতির বিশপরা CCBI-LR প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৪ সালের জানুয়ারিতে পোপীয় দফতর CCBI-এর Statutes অনুমোদন করলে এটি ভারতের লাতিন ক্যাথলিক মণ্ডলীর জাতীয় বিশপ সম্মেলন হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে। বর্তমানে CCBI ভারতের লাতিন ক্যাথলিক মণ্ডলীর পালকীয় ও মিশনারি কার্যক্রমে জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয় ও দিকনির্দেশনা প্রদান করে।

